দেখুন (MRI) এম আর আই কিভাবে করা হয়

(MRI)এম আর আই কি? কি ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এম আর আই করার প্রয়োজন হয়? একজন সুস্থ মানুষ কি এটা করাতে পারবে?

বর্তমান চিকিত্সা যুগের একটি অসাধারণ ডায়াগনস্টিক টুল। পদ্ধতিটি খোলা চোখে অনেকটা সিটি স্ক্যানের মতই। তবে সিটি স্ক্যানে সনাক্ত করা যায় নি বা কোনা কারণে সিটি স্ক্যান করা সম্ভব হচ্ছে না, এমন ক্ষেত্রে এমআরআই করা হয়।

এর মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশের নিঁখুত ছবি তোলা যায়। মস্তিষ্ক, চোখ, রক্তনালী, মেরুদন্ড, হাড়, ফুসফুস, হৃদপিন্ড, পেট, তলপেটসহ শরীরের সব অংশেরই এমআরআই করা সম্ভব।

ক্যান্সার, টিউমার, রক্তক্ষরণ, সংক্রামণ, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা সহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে এমআরআই-এর মাধ্যমে পাওয়া ছবি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশের টিউমার, ক্ষত, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু, ভাংগা হাড় ইত্যাদি সনাক্ত করা যায়। এর মধ্যে পাওয়ারফুল ম্যাগনেট এর মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষন করা হয়।

এমআরআই-এ ব্যবহৃত চুম্বকটি অত্যন্ত শক্তিশালী। যেকোন চৌম্বক পদার্থ বা ধাতুকে আটকে ফেলার ক্ষমতা রাখে এটি। এ কারণে এমআরআই এর সময় অলংকার, হেয়ার ক্লিপ বা অন্য কোন ধরনের ধাতু সঙ্গে রাখা যায় না। শরীরের ভেতরে পেসমেকার বা অন্য কোন ধাতব পদার্থ থাকলে, হাড় জোড়া দিতে কোন ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকলে এমআরআই তো করা যাবেই না,

এমনকি এমআরআই কক্ষেও প্রবেশ করা যাবে না। আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানের চেয়ে উন্নত পদ্ধতি এটি। অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বকের মাধ্যমে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে মানবদেহের ভেতরের চিত্র নেয়াই হচ্ছে এমআরআই। এখন পর্যন্ত এর কোন ক্ষতিকারক প্রভাব নেই বলে মনে করা হয়।

এমআরআই করার সময় বিশেষ গাউন পরিধান করতে বলা হতে পারে। পরীক্ষাটি করতে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা সময় লাগে। এ সময় রোগীকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে হয়, কোন ধরনের নড়াচড়া করা যায় না। রোগী বেশি নার্ভাস থাকলে সিডেটিভ জাতীয় ওষুধ দেয়া হতে পারে। এছাড়া ভালো ছবি পেতে কন্ট্রাস্ট ম্যাটেরিয়াল ইনজেকশন হিসেবে দেয়া হতে পারে।

শরীরে মেটাল ইমপ্ল্যানট আছে (পেসমেকার, রিং, অর্থোপেডিক কাস্ট) এমন রোগীর এমআরআই করা হয় না। ওদের সিটি স্ক্যান করে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই একজন সুস্থ্য মানুষও MRI করাতে পারেন l এই পরীক্ষার মাধ্যমে বরং তার শরীরের লুকায়িত রোগ থেকে থাকলে সে সেটা সমন্ধে জানতে পারবে আর সেই মোতাবেক চিকিৎসা নিতে পারবে l

video link here….https://youtu.be/cLga2-xH-Sc

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*