ছবির লোকটি সাদিও মানে, একজন ফুটবলার, তার কিছু অসাধারণ কৃতি কথা পড়ে নিন, ভাল লাগবে- বিস্তারিত

ছবির লোকটি সাদিও মানে, একজন ফুটবলার। বর্তমানে লিভারপুলের হয়ে খেলছেন। তাঁর শুধু সাপ্তাহিক আয় প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
ছবিটি দেখুন। হাতে তাঁর ভাঙা আইফোন। এমন ভাঙা ফোন ব্যবহার করেন কেন, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি সার্ভিসিং করে নেব।

উনাকে বলা হলো, আপনি নতুন একটি মোবাইল কেন নিচ্ছেন না?
উনি বললেন, “এমন মোবাইল চাইলে হাজারটা কেনা যায়। চাইলে ২ টা জেট বিমান, হাজার খানেক ডায়মন্ডের ঘড়ি কিনতে পারি। কিন্তু এসব কী আমার সত্যিই প্রয়োজন? এগুলো শুধু বৈষয়িক বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষের রুচি খুবই নিম্নমানের না হলে কেউ বিশ-ত্রিশ হাজার ডলারের ঘড়ি হাতে দিয়ে ঘুরবে না। আর এসবের মাধ্যমে আমার এবং সমাজের কোনো উপকারে আসবে? যেই মুহুর্তে আমার নিঃশ্বাস শেষ, সেই মুহুর্ত থেকে এসবের মালিকানাও শেষ।”

সাদিও মানে আরও বলেন, দারিদ্র্যের কারণে আমি পড়ালেখা করতে পারিনি। আমি শিক্ষিত না। তাই হয়তো শিক্ষার গুরুত্ব বুঝেছি। দরিদ্র ছিলাম বলেই হয়তো জীবনের আসল অর্থ বুঝেছি। কিন্তু দুনিয়ায় আজ যারা বড় শিক্ষিত, তারাই শিক্ষার গুরুত্বটা ঠিকঠাক বুঝছেন না। যদি বুঝতেন, তবে দুনিয়াতে এতো অভুক্ত শিশু না খেয়ে রাতে ঘুমোতে যেত না। মানুষ দিন দিন এভাবে ভোগ-বিলাসের কয়েদি হয়ে উঠত না। আমি নিজের বিলাসবহুল বাড়ির পরিবর্তে অসংখ্য স্কুল তৈরি করেছি, দামি পোশাকে ওয়াড্রব ভর্তি না করে বস্ত্রহীন মানুষকে বস্ত্র দিয়েছি, নিজে দামি গাড়ি চালানোর পরিবর্তে অগণিত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্কুল বাসের ব্যবস্থা করেছি, প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে দামি রেস্টুরেন্টে না খেয়ে অগণিত ক্ষুধার্ত শিশুর খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি, এটা আমি জানি।

এটাই তো হওয়ার কথা ছিল, জীবনের উপলব্ধি তো এটাই। তবে জীবনকে উপলব্ধি করতে চাই না আমাদের সবাই। অনেকসময় আমরা শেকড়কে ভুলে যাই। নিজের অতীত ভুলে যাই, নিজে কোথা থেকে উঠে এসেছি সেটা ভুলে যাই। শিখরে উঠে শেকড়কে ভুলে যাওয়া চলবে না। তখন নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা হয় মূলত।]

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*